গ্রাজুয়েট হকার নাটক
গ্রাজুয়েট হকার নাটক
চৈতি আমাকে অনেক বেশি ভালবাসত রজ বাধন পেতাম আর দুজনের ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতাম। একদিন চৈতি আমাকে প্রশ্ন করলো?
বললো তুমি আমাকে বিয়ে করবে কবে আমাদের সংসার কেমন হবে। আমি বললাম সবচাইতে জাঁকজমকপূর্ণ আমাদের বিয়ে হবে আমরা খুব আনন্দের সাথে সংসার জীবন করব।
চৈতি প্রশ্ন করল আমরা কিসের থাকবো তোমাদের দেশে নাকি ফ্লাট বাসা? আমি বললাম কেন আমরা নতুন বাড়িতে উঠবো। চৈতি প্রশ্ন করল?
তাহলে তুমি এত টাকা কোথায় পাবা আমি বললাম কেন আমি একটা চাকরি করব সরকারি চাকরির লোন নিব বড় বাড়ি করব তারপরে তোমাদের আব্বু আম্মু কে দাওয়াত দিব জাঁকজমক সম্পন্ন বিয়ে করবো। চৈতি ক প্রশ্ন করল?
কবে আমার সেই দিন হবে।
আমি তাকে বললাম এই তো আরেক বছর তার পরেই আমার রেজাল্ট বের হয়ে আসবে তারপরে আমি চাকরি করব তোমাকে নিয়ে সংসার করবো। এই বলে বাদামগুলো চৈতির হাতে দিলাম খাবার জন্যে।
চৈতি আবার প্রশ্ন করল? তো আমাদের সন্তানের নাম রাখব কি আমি বললাম এখনও ঠিক করিনি কালকে তোমাকে বলবো। এভাবেই দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেল।
চৈতি আবারও প্রশ্ন করল? দেখো আমার মামা আমার জন্য পাত্র দেখতেছে আমাকে এবার বিয়ে করতে হবে তোমার চাকরি কি হল । চৈতি প্রশ্ন করলাম তোমার চাকরি কবে হবে?
আমি ভেবে ভেবে কোন উত্তর পাই না বললাম অ্যাপ্লিকেশন জমা দিচ্ছি 5/6 জায়গায় দেখো এবার হবে। চৈতি এভাবে বলল দেখো আমি বাড়িতে থাকতে পারতেছি না আমাকে খুব টর্চার করতেছে বিয়ে করার জন্য।
ওই দিন কোন ভাবে চৈতিকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম। আমার বাড়িতে মা আছে ছোট বোন আছে। আমার কাছে টাকা নেই ফুরিয়ে গেছে ম্যাচ ভাড়া দিতে পারতেছি না। মা শীলায়ের কাজ করে মাঝে মাঝে মার কাছ থেকে টাকা নেই।
আমি মার কাছে কিছু টাকা চাইলাম কিন্তু মা বলল বাবা আমি তোকে এই মাসে টাকা দিতে পারতেছিনা। মুতিওয়ালা আমাকে খুব জ্বালাচ্ছে। তার দোকানে অনেক বাকি পরে আছে।
মা তো দিল না ভললো বাবা তুই বাড়ি চলে আয়। আমি কয়েক জায়গায় চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে রেখেছে অ্যাপ্লিকেশন জমা দিছি।
আরো কয়েক জায়গায় চাকরির জন্য ঘুরতেছি টাকা নেই কি করবো। মেসে দুপুর বেলা শুয়ে আছি আমার মেসে মেম্বার শফিক আমাকে বলতেছে ভাই কি চিন্তা করেন।
তো আমি বলতেছি একটা চাকরি যদি পেতাম যত ছোটই হোক করতাম শফিক ভাই আপনি জেন কি কাজ করেন। শফিক ভাই উত্তর দিল ভাই আমি পেপার হকারি করি মানে মানুষের বাড়ি দোকানে পেপার দিয়ে বেড়ায়। আমি মনে মনে ভাবতেছি কাজ যাইহোক একটা করে ম্যাচ ভাড়া খাওয়ার টাকা জোগাড় তো করতে হবে।
তো শফিক ভাইকে একটু বলি দেখে আমাকে কিছু পেপার দেয় কিনা তো আমিও কাল থেকে হকারি করব। বলব কিনা ভাবতেছি। 100 বার ভাবার পর ডিসিশন নিলাম বড় হতে গেলে বা নিজেকে বাঁচাতে হলে একটা কিছু করতে হবে তো বলেই দেখি।
শফিক ভাই আমাকে কি কাল থেকে আপনার সাথে কাজে নিয়ে যাবেন। শফিক ভাই উত্তর দিলেন ছিঃ ছিঃ ছিঃ কি বলেন আপনি হলেন গ্রাজুয়েট আমি হলাম 5 পাস আপনি হলেন গ্রাজুয়েট তো আপনি কি করে একে কাজ করবেন।
আমি আপনার এই কাজ করতে দিব না। শফিক ভাইয়ের হাতটা ধরে বললাম ভাই আমাকে তো বাঁচতে হবে আমাকে তো খেতে হবে আমাকে তো মাথা গোঁজার ঠাঁই টা রাখতে হবে।
শফিক ভাই বললেন ঠিক আছে ভাই আমি আপনাকে কালকে থেকে নিয়ে যাব। সকাল সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠিয়া শফিক ভাই আর আমি গেলাম পেপারওয়ালা যে মালিক তার কাছে।
উনি খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন উনার নাম ছিল শওকত কেন বাবা তুমি এই কাজ করবা। আমি বললাম আমাকে একটা চাকরি জন্য আরেকটা চাকরি আমাকে করতে হবে হোক ছোট ।
শওকত সাপ বললেন ঠিক আছে বাবা তুমি পেপার নিয়ে যাও শফিক তোমাকে বুঝিয়ে দেবে কিভাবে বিক্রি করতে হয়। দিন শেষে বিকেলের দিকে চৈতি ফোন দিছে তুমি কোথায় আছো।
আমি ফোন ধরে বললাম এই তো আমরা যেখানে দেখা করি ওইখানের আশেপাশেই আছি তুমি আসো আমি দেখা করতে ছি। চৈতি আসলো।
বলল এসেই বলল চাকরির কি খবর চাকরি কি পাইছেন আমি বললাম না। আমি পেয়ে এ যাবো খুব তাড়াতাড়ি চাকরি। এই বলে বার্গার নিয়ে আসলাম এসে চৈতিকে দিলাম যে তুমি খাও।
চৈতি বলল টাকা পাইছে কই আমি বললাম ও তুমি ভেবোনা টাকা হয়ে যায়। রোজকার মতন চৈতি চলে গেল আমিও চলে আসলাম মেজে। এবার চৈতি বাড়িতে আসলে চৈতির মামা চৈতির বাবা বলতে লাগলো মা কোথায় গেছিলা।
চৈতি উত্তর দিল বাবা আমি আমার বান্ধবীর বাড়িতে গেছিলাম।
চৈতি নিজের রুমে যাওয়ার সময় চৈতির বাবা চৈতিকে বসতে বলল। চৈতি বসল এবার বলল মা একটা ভালো সম্বন্ধ আসছে ছেলে আমেরিকা থাকে 1 লক্ষ টাকা মাইনা।
তোকে দেখি ওরা খুব পছন্দ করেছে তুই যদি হ্য়াঁ বলি তাহলে বিয়েটা হয়ে যায় আমি কখন মরে যাই আমার কত অসুখ হার্টের সমস্যা কিডনিতে সমস্যা ঠিকমতন চোখে দেখি না তুই একবার হাঁ কর মা তুই একবার হাঁ কর।
চৈতি বলল বাবা আমাকে আর তিনটা মাস সময় দাও। চৈতি মামা বলল না তুই অনেক সময় নিছিস আর পারব না এই ছেলে হাতছাড়া হয়ে গেলে আমাদের সব চলে যাবে। চৈতি মুখ কালো করে মন খারাপ করে রুমে চলে গেল।
পরদিন আমার সাথে আবার চৈতির দেখা হলো। চৈতি আমাকে বলল তুমি কি করছ আমারা যে আর এভাবে দেখা করতে পারবোনা । কেন কি হইছে তোমার বিয়ে নিয়ে আবারও তারা মাথা ঘামাচ্ছে তোমার মামা। তো তুমি কি করলা ডিসিসন দাও তুমি আমার বাবা-মার কাছে যাও চৈতি বলবো।
আমি বললাম আমার চাকরি নাই চাকরি নাই আমি কি করে তাদের সামনে যাই। চৈতি বলল তাহলে এটাই আমাদের শেষ দেখা। এই বলে চৈতি চলে গেল। চৈতি কিছুদিনের জন্য ফুফু ও বাড়িতে বেড়াইতে যায়। এমত অবস্থায় বাড়িতে ঠিক একটা সময় একজন লোক আছে কলিং বেল বাজায়।
চৈতির ফুফু বল্লো চৈতি মা দেখ তো কে এলো দেখতো পেপারওয়ালা নাকি। পেপার হলে টেবিলের উপরে টাকা আছে টাকাটা দিয়ে দিস।
চৈতি দরজা খুলল দেখল পেপারওয়ালা চৈতি আমাকে দেখে অবাক হয়ে বললো তুমি। আমি লজ্জায় তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি।
চৈতির চুপ করে গেল তখন চৈতির ফুফু এসে বলল এই যে নাও তোমার টাকা। আর চৈতিকে চৈতির ফুফু বলল জানিস এই ছেলেটা না গ্রাজুয়েশন করা চাকরি পায় না তাই পেপার বিলি করতে ছে।
আমি টাকাটা নিয়ে মাথা নিচু করে চলে আসলাম। পরদিন বিকেলে চৈতি আমাকে ডাকলো। এবং আমাকে বলল তুমি হকারি করো ছি ছি ছি এটাই আমার দেখার বাকি ছিলো আমি এখন কি করে বলবো যে তুমি একজন হকার কি করে আমার বাবা-মার সামনে নিয়ে যাব।
কালকে আমি তোমাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কারণ পরশু আমার বিয়ে। তখন আমি চৈতিকে বললাম রাস্তার ধারে ধারে গেছি একটা চাকরির জন্য আসলে কি জানো চাকরির বাজার টা আমরা অনেকটাই অসহায় মামা খালু ছাড়া চাকরি হয় না।
স্টুডেন্ট লাইফে বোঝা যায় না যখন ভবিষ্যৎ সামনে পড়ে ঠিক তখনই বোঝা যায়। আমি তোমাকে ভালোবাসি খুব কষ্ট লাগবে খুব কষ্ট লাগবো তুমি আমার হাত ধরবে যদি ধরো তাই চলো আমরা চলে যাই দূর হতে বহু দূরে।
হয়তোবা আমরা অট্টালিকার পরে থাকতে পারবো না সাধারণভাবে তো থাকতে পারবো। চৈতি চলে আসলো। অনেকগুলো সময় চলে গেল কিছু সময় পর চৈতালির বিয়ে। চৈতির সর্বক্ষণ চোখে শুধু আমাকে ভাসছিল চৈতির কোনো কিছুই ভালো লাগতেছিল না বিষের বোতল নিয়ে রেখেছিল।
কিন্তু চৈতি খুব শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান মেয়ে সে ভাবলো যে আমি যদি বিষ খেয়ে মরে যাই তো ওর কাছে আমাকে দিবে না। চৈতী বাড়ির পিছন দিক দিয়ে এগিয়ে আসলো আমার কাছে। তখন আমার বাসায় মেসে কেউ ছিলনা তখন আমাদের কাছে যা টাকা ছিলো তা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। রেল স্টেশনে গিয়ে উঠে গেলাম।